এমডিএফ ফার্ণিচার

এমডিএফ বোর্ডের ফার্নিচার প্রস্তর যুগে শুধু পাথর দিয়ে ফার্নিচার তৈরি করা হত। এরপর আমরা কাঠ দিয়ে ফার্নিচার বানানো শিখলাম। সময়ের পরিক্রমায় কাঠের ফার্নিচারের সাথে যুক্ত হল স্টিল, বেতের ফার্নিচার। সময় যত অতিক্রান্ত হয়েছে ফার্নিচার তত আধুনিক হয়েছে। এক সময় প্লাস্টিকের তৈরি ফার্নিচারও বাজারে চলে আসল। সমান তালে পাল্লা দিয়ে চলল কাঠের ফার্নিচার, স্টিলের ফার্নিচার, প্লাস্টিকের ফার্নিচার। এরই মাঝে এসে হাজির হল প্রসেস করা কাঠের বোর্ডের ফার্নিচার। দেখতে বেশ স্মুথ আর নিখুঁত ফিনিশিং এর কারণে খুব দ্রুতই বোর্ডের ফার্নিচার জনপ্রিয়তা পেতে লাগল। দামের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে এমডিএফ বোর্ডের ফার্নিচার। এই বোর্ডের ফার্নিচার বেশ সাশ্রয়ীও। তাই খুব সহজেই ক্রেতাদের মন জয় করে নিয়েছে। আজ আলোচনা করব এমডিএফ বোর্ডের ফার্নিচার নিয়ে।

এমডিএফ বোর্ড কীঃ এমডিএফ বোর্ড হচ্ছে প্রসেসকৃত কাঠ। মেশিনের সাহায্যে কাঠ প্রসেস করে বোর্ড তৈরি করা হয়। এ বোর্ড কাঠ বা স্টিলের মত এত খসখসে থাকে না। উপরের দিকটা বেশ মসৃণ থাকে বলে দেখতে চমৎকার লাগে। এই বোর্ডের উপর ক্ষত সৃষ্টি হয় না, বারবার বার্নিশিং করতে হয় না, বার্নিশ নষ্ট হয় না। এমনকি উপরে পানি পড়লেও তেমন সমস্যা হয় না। অতীতে এমডিএফ বোর্ড বিদেশ থেকে আমদানি করা হত। তবে বর্তমানে দেশেই তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের এমডিএফ বোর্ড। এ বোর্ডের ফার্নিচার দেখতে অনেক সুন্দর বিধায় এর চাহিদাও তুঙ্গে।

কিভাবে এমডিএফ বোর্ড তৈরি হয়: কিভাবে এই উদ্ভট বোর্ড তৈরি হয় সেটা জানতে সবারই কৌতূহল থাকাটা স্বাভাবিক। মিডিয়াম ডেনসিটি ফাইবারবোর্ড বা এমডিএফ বোর্ড তৈরি হয় কাঠ প্রসেসিং করে। শক্ত কাঠ মেশিনের সাহায্যে গুড়া করা হয়। গুড়া করা হয় বিধায় এখানে ওয়েস্টেজ হয় না। কাঠের অশক্ত আগা, বাঁকা মাথা সবই কাজে লাগানো যায়। এরপর সেই কাঠের গুড়া সাইজ অনুযায়ী একটা শেপের মাঝে অতি উন্নতমানের আঠা দিয়ে লাগানো হয়। কাঠের গুড়াগুলো শক্ত হয়ে জমাট বেধে গেলে চাপ ও তাপের সাহায্যে উপরিভাগে ফাইবার বোর্ডের প্রলেপ দেওয়া হয়। ফাইবারের প্রলেপ দেওয়ার পর বোর্ড বেশ স্মুথ হয়। কিভাবে এমডিএফ বোর্ড তৈরি হয় সেটা আরও ভালভাবে জানতে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন। https://www.youtube.com/watch?v=ZRE1L7anoss

এমডিএফ বোর্ডের অবদান: ফার্নিচার জগতে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে এই এমডিএফ বোর্ড। এমডিএফ আসার আগে ফার্নিচার ছিল অনেক ওজনদার, দামি, দেখতে অসুন্দর। প্লাইউডের বোর্ড সে রকম হলেও টেকসই না। কিন্তু এমডিএফ সব চাহিদা একত্রে মেটাচ্ছে। আগে বিশাল ওজনদার কাঠের টেবিল, আলমারি, ডেস্ক টেবিল, আলনা, সিন্ধুক দেখা যেত। কিন্তু এমডিএফ আসার পর উপরের সব ফার্নিচারই হালকা হয়ে গেছে। দেখতেও বেশ মনোমুগ্ধকর। এখন ড্রেসিং টেবিল, রিডিং টেবিল, কম্পিউটার টেবিল, টি টেবিল, ফাইল কেবিনেট, ডেস্ক টেবিল সব কিছুতেই চলছে এমডিএফের রাজত্ব। তথাপি ফার্নিচার জগতে এমডিএফ এর ঠিক বুঝানো যাচ্ছে না। সেগুলো একটু পয়েন্ট আকারে হাইলাইট করা দরকার।

  • আধুনিকতার ছোয়াঃ এমডিএফ ফার্নিচারই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়েছে। এমডিএফ তৈরিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এমডিএফ ফার্নিচার ঘরে থাকা মানেই অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকা। আধুনিক জীবনের ছোঁয়া দিতে এমডিএফের অবদান প্রচুর।
  • আবর্জনা দুরীকরণঃ কাঠের ফার্নিচারের দোকানে অনেক ওয়েস্টেজ পরে থাকে। স মিলে প্রচুর বাঁকা মাথা পরে থাকে। কিন্তু এমডিএফ এসব কাঠ ভেঙ্গে তৈরি হয় বলে এসব ওয়েস্টেজ থেকেও তৈরি করা যায়। তাই আবর্জনা থেকে বোর্ড তৈরি করে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এমডিএফ। কেননা কাঠের ফার্নিচারের দোকান, স মিল থেকে প্রচুর ওয়েস্টেজ তৈরি হয়ে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। বিপরীতে এমডিএফ সেগুলো থেকে বোর্ড বানিয়ে পরিবেশ রক্ষা করে থাকে।
  • সহজলভ্য: এমডিএফের সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে ফার্নিচার সবার নাগালের মাঝে নিয়ে এসেছে। সহজলভ্য বিধায় গরীবরাও ফার্নিচার কিনতে পারছে। কাঠের একটা টেবিল কিনতে যেখানে ন্যুনতম ১০ হাজার টাকা লেগে যায় সেখানে মাত্র ৩ হাজার টাকা দিয়েই এমডিএফ টেবিল কিনতে পারছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে কাঠের ফার্নিচারের দাম দিন দিন বাড়ছে। সেই তুলনায় এমডিএফ এর ফার্নিচারের দাম বরং কমছে। সবার নাগালের মাঝে ফার্নিচার নিয়ে আসতে এমডিএফ এর অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এমনকি প্লাইউড বোর্ড থেকেও এ ফার্নিচারের দাম কম।
  • সৌন্দর্য বৃদ্ধি: সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এমডিএফ প্রচুর অবদান রেখেছে। আপনি নরমাল একটি কাঠের ফার্নিচারের সাথে এমডিএফ ফার্নিচারের তুলনা করলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। উপরে ফাইবার থাকে বিধায় বেশ চকচক করে। বেশ স্মুথ আর নিখুঁত ফিনিশিং বলে দেখতেও চমৎকার লাগে। ফার্নিচারের চেহারাটাই পাল্টে দিয়েছে এমডিএফ। বিশাল মোটা কাঠের ফার্নিচার এখন স্লিম হয়ে স্মার্ট হয়ে গেছে। ফার্নিচারের সৌন্দর্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্য সব উপাদান থেকে এমডিএফ এর অবদান সবচেয়ে বেশি।

ফার্নিচার তৈরিতে এমডিএফের ব্যবহারঃ

ফার্নিচার তৈরি করতে এমডিএফের ব্যপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। টি টেবিল, ডাইনিং টেবিল, সোফা, রিডিং টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, কম্পিউটার টেবিল, অফিসে ডেস্ক টেবিল সহ প্রায় সব ফার্নিচারই এমডিএফ দিয়ে তৈরি করা যায়। এমডিএফ বোর্ড কাঠের চেয়ে পিছিয়ে নেই। আজকাল এমডিএফের খাটও তৈরি হচ্ছে।

এমডিএফ এসে ফার্নিচারের ধ্যান-ধারণাই বদলে দিয়েছে। পুরানো কাঠের জীর্ণশীর্ণ ফার্নিচার হয়েছে বেশ স্মার্ট। আধুনিক ফার্নিচার হলেও দামে বেশ সস্তা। ফলে এমডিএফ মানুষের মাঝে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। যারা টেবিল, কেবিনেট, ড্রেসিং টেবিল এসব হালকা ফার্নিচার কিনবেন তারা কাঠের ফার্নিচারের চেয়ে এমডিএফ ফার্নিচারকে প্রাধান্য দিন। কেননা এমডিএফ ফার্নিচার দামে যেমন কম তেমনি এর সুযোগ সুবিধাও বেশি। কম দামেই পেয়ে যাবেন স্মার্ট ফার্নিচার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *