ফার্ণিচার দিয়ে ঘর সাজানো

কিভাবে ফার্নিচার দিয়ে ঘর সাজাবেন: একজন মানুষের রুচি কেমন সেটা বুঝা যায় গৃহ অভ্যন্তরের সাজ-সজ্জা দেখে। বাসায় ফার্নিচার সাজাতে কিছু নিয়ম কানুন মানতে হয়। ডাইনিং এর সাথে যেমন সোফা মানায় না তেমনি খাটের সাথে চেয়ারও মানায় না। সুন্দর করে ফার্নিচার বিন্যাস করতে পারলে বাসায় সৌন্দর্য অনেকগুণ বেড়ে যায়। ফার্নিচারের মাধ্যমে সহজেই আপনার ব্যক্তিত্বকে অন্যের মাঝে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। ফার্নিচারের সাথে দেওয়ালের শো-পিসও সৌন্দর্য বর্ধনে ভূমিকা রাখে। এক ফার্নিচারের সাথে আরেক ফার্নিচারের সঠিক কম্বিনেশন অনেকেই জানেন না। আপনাদের সুবিধার্থে ফার্নিচার দিয়ে গৃহ সজ্জার প্রয়োজনীয় টিপস নিয়ে হাজির হলাম। আসুন জেনে নেই কিভাবে ফার্নিচার দিয়ে ঘর সাজাবেন।

প্রবেশ দ্বার: বাসায় প্রবেশ মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। প্রবেশ পথে থুথু ফেলবেন না। প্রবেশ দ্বারের শুরুতেই সু-র‍্যাক রাখবেন। এতে সবাই সহজেই নিজেদের জুতো রাখতে পারবে। সু-র‍্যাকের স্থান হবে দরজার পাশেই। প্রবেশ পথে অতিরিক্ত ফার্নিচার রাখবেন না। অনেকেই এখানে পুরানো বইপত্র, পেপার ফেলে রাখে। মোটেও এসব করা উচিত না। এতে আপনার নিন্ম রুচির পরিচয় ফুটে উঠে।

বেডরুম: বাসার বড় অংশ জুড়েই থাকে বেডরুম। প্রতিটি বাসাতেই অন্তত ২/৩ টি বেডরুম থাকে। তাই বেডরুম সাজাতে ভাল করে নজর দিতে হবে। বেডরুম পরিচ্ছন্ন ও মনোরম হলে ঘুমাতেও শান্তি লাগে। আপনাকে দিনের অধিকাংশ সময়ই কাটাতে হবে বেডরুমে। তাই প্রথমেই নিজের পছন্দমত ডিজাইনের খাট নিয়ে আসুন। বাজারে এখন স্টিল, কাঠ, বোর্ডের খাট পাওয়া যায়। সবচেয়ে টেকসই কাঠের খাট। খাট বসানো হলে আপনার রুচির সাথে মিলিয়ে নান্দনিক ডিজাইনের বেডশীট বিছিয়ে দিন। বাসার দেওয়ালের রঙের ডিজাইনের সাথে মিলিয়ে জানালার পর্দা লাগিয়ে দিন। নির্দিষ্ট হোল্ডারে ডিম লাইট লাগিয়ে নিন। ড্রেসিং টেবিল, ওয়ারড্রোব, ক্লোজেট এসব বেডরুমেই রাখবেন। দেওয়ালে চিত্রকর্ম, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কিংবা কুরআনের আয়াত টানাতে পারেন। জানালায় দেওয়াল বাওয়া ফুলের টব রাখতে পারেন। এ ছাড়া দেওয়ালেও পানিতে বেচে থাকতে পারে এমন ফুল গাছ ছড়িয়ে দিন। এগুলো বাদে বেডরুমে অপ্রয়োজনীয় কিছু রাখবেন না। তাতে রুমের সৌন্দর্য হারাবে। নিয়মিত ঝাড়ু দিয়ে বেড পরিচ্ছন্ন রাখবেন। ৩ মাস অন্তর বেডশীট ধুয়ে দিন। খাট, ড্রেসিং টেবিল, ওয়ারড্রোব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।

ডাইনিং রুম: ডাইনিং রুমও সুন্দর করে সাজাতে হবে। যাতে কারও খেতে বিরক্তি না আসে। মাঝের রুমকেই ডাইনিং রুম হিসাবে বেছে নিবেন। টয়লেটের পাশে ডাইনিং রুম করবেন না। ডাইনিং রুমে থাকবে ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, শো-কেস। ৬-৮টির বেশি চেয়ার রাখবেন না। ডাইনিং টেবিলের দেওয়ালেও ওয়ালম্যাট হিসাবে বিখ্যাত পেইন্ট, শিল্প, বিশ্বের সুন্দর সুন্দর পর্যটন প্লেস, খাবারের ছবি, ঐতিহাসিক ছবি লাগাতে পারেন। এতে আপনার ডাইনিং রুমের সৌন্দর্য অনেকগুণ বেড়ে যাবে। ডাইনিং রুমে উপরোল্লিখিত ফার্নিচার ছাড়া আর কিছু রাখবেন না। আর ডাইনিং রুম সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। ডাইনিং রুম নোংরা হয়ে গেলে একদিকে খাওয়ার রুচি থাকে না অপরদিকে রোগ বালাই ছড়ায়।

বৈঠকখানা: বৈঠকখানায় রাখতে হবে সোফা, কুশন, টি টেবিল। রুমের সাইজ অনুযায়ী চারদিকেই সোফা রাখুন। মনে রাখবেন অতিথি আসলে সর্ব প্রথম এই বৈঠকখানাতেই বসবে। তাই বৈঠকখানা দৃষ্টিনন্দন, মনোমুগ্ধকর করে সাজাতে হবে। দেওয়াল সাজাবেন বেডরুম, ডাইনিং রুমের মতই। তবে এখানে ভিন্ন ডিজাইনের ওয়ালম্যাট দিবেন। অতিথিরা সবচেয়ে বেশি সময় কাটাবে এখানেই। চা, নাস্তা পরিবেশন করতে হবে টি টেবিলে করেই। বৈঠকখানায় লাইটিং করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিবেন। বাজারে অনেক কারুকাজ করা চমৎকার ডিজাইনের লাইট পাওয়া যায়। সেগুলো নিচের দিকে মুখ রুমের মাঝ বরাবর লাগাবেন। চাইলে দেওয়ালে ঝাড় বাতিও লাগাতে পারেন।

রিডিং রুম: রিডিং রুমে থাকবে বুক সেলফ, রিডিং টেবিল, কম্পিউটার টেবিল ও চেয়ার। এখানে বসেই পড়াশুনা করতে হবে। তাই পরিবেশটা নিরিবিলি করুন যাতে অন্য রুমের কোলাহল এখানে না আসে। দেওয়ালে টানাতে পারেন বিখ্যাত মনীষীদের উক্তি, অনুপ্রেরণামূলক বাক্য, কুরআনের আয়াত। চাইলে রিডিং রুমে বসেই কম্পিউটার চালাতে পারেন। রিডিং রুমে যেহেতু ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকটা সময় কাটায় তাই এখানের পরিবেশটা পড়াশুনার উপযোগী করতে হবে। রিডিং টেবিলে প্লাস্টিকের ফুল রাখতে পারেন। কিংবা পানিতে বেঁচে থাকে এমন ছোট গাছ।

কিচেন রুম: কিচেন রুমে থাকবে ভাতের র‍্যাক, স্পুন হ্যাঙ্গার। যাদের বাসায় জায়গা কম তারা কিচেন রুমে ডাইনিং টেবিল রাখতে পারেন। কিচেন রুমে রান্না বান্নার ময়লা ফেলে রাখবেন না। শাক-সবজী, তরকারির উচ্ছিষ্ট নির্ধারিত বালতিতে ফেলুন। বালতির ময়লা বেশিদিন রুমে ফেলে রাখবেন না। তাতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরবে। ২/৩ দিন পর পর ডাস্টবিনে ফেলে আসুন।

ঘর সাজানোর জন্য ফার্নিচারের পাশাপাশি শো-পিস একটা উৎকৃষ্ট মাধ্যম বলে অভিহিত হতে পারে। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্ত সকলের বাড়িতেই কাঠ, বাঁশ, বেত অথবা লোহার বিভিন্ন ডিজাইনের ফার্নিচার পাওয়া যায়। সেই ফার্নিচারের সাথে সাথে রুচিশীল মানুষ তাদের ঘর সাজায় নানান রকম শো-পিসের সমারোহে। একসময় মানুষের ধারনা ছিল, শো-পিস শুধু মাত্র শো-কেসেই রাখতে হয়। তাই শখের ছোট ছোট শো-পিসগুলোও মানুষ সাজিয়ে রাখত তাদের শো-কেসে। কিন্তু এখন মানুষের ভাবনার পরিবর্তনের সাথে সাথে এসেছে মানুষের রুচিতে পরিবর্তন। এখন শো-পিস শুধু শো-কেসেই নয়, সাজানো যায় ঘরের যেকোনো স্থানেই।

ঘর সাজাতে ফার্নিচারের সাথে শো-পিসেও মনোযোগ দিবেন। বাজারে বেশ কম দামেই অনেক শো-পিস পাওয়া যায়। যে কোন ১-৯৯ শপে গেলেই নয়নকাড়া শো-পিস পেয়ে যাবেন। ফার্নিচারের সাথে শো-পিস রাখলে বাসার সৌন্দর্য অনেক বেড়ে যায়। বৈঠকখানায় বেতের চেয়ার রাখতে পারেন। বেতের তৈরি জিনিষ যে কাউকে মুগ্ধ করবেই। এ ছাড়া বর্তমানে এক ফার্নিচারেই খাট, ডাইনিং টেবিলের সুবিধা পাওয়া যায়। সেগুলোও নিতে পারেন। এগুলোকে বলা হয় স্মার্ট ফার্নিচার। তবে দামটাও সে রকম স্মার্ট মানে অনেক বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *